পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের প্রতি সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ জমতে জমতে পাহাড়প্রমাণ হয়েছিল। এবার পালাবদলের পর বর্তমান বিজেপি সরকারের প্রতি তাদের প্রত্যাশা প্রচুর। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো রাজ্যে ইতিমধ্যেই এসেছে সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission)। এবার কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে ময়দানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বকেয়া ডিএ জট কাটাতে উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী |
ডিএ সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যা কাটাতে আগামী ৩০মে শনিবার নবান্নে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে মূলত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আলোচনা হতে পারে পূর্ববর্তী সরকারের আমলের একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েও। সাম্প্রতিক অতীতে কোনো মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে সরাসরি সমস্ত কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার নজির কার্যত নেই।
এই মুহূর্তে রাজ্যের সমস্ত কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা তাকিয়ে রয়েছেন ৩০শে মে-র এই বৈঠকের দিকে। সমস্ত স্তরের কর্মচারীদের ডিএ সংক্রান্ত যাবতীয় দাবি-দাওয়া কী মিটবে? শীঘ্রই জট খুলবে বকেয়া ডিএ নিয়ে? তাহলে কী পুজোর আগেই আসবে সুখবর? আপাতত এই সমস্ত প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কর্মচারীমহলে।
যদিও বকেয়া ডিএ-র বোঝা বিরাট। প্রথমত, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া ডিএ রয়েছে। যা মেটানোর জন্য তৎকালীন মমতা সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই বকেয়ার সামান্য অংশ মিটিয়েছিল পূর্ববর্তী সরকার। বাকি গোটাটার দায়ভার এসে পড়েছে বর্তমান বিজেপি সরকারের ওপর।
আবার ২০২০ সালে ষষ্ঠ বেতন কমিশন কার্যকরের পর থেকে বকেয়া থাকা ডিএ নিয়েও সরব সরকারি কর্মচারীরা। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ৬০% হারে ডিএ পাচ্ছেন, আর রাজ্য সরকারি কর্মীরা মাত্র ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। ফারাক বেড়ে হয়েছে ৪২ শতাংশ। এই ব্যবধান ঘোচাতেও চাই হাজার হাজার কোটি টাকা। যদিও সরকারি কর্মচারীদের দাবি, বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতায় এলে মেটানো হবে সমস্ত বকেয়া। তাই তারা আশাবাদী যে খুব শীঘ্রই তাদের জন্য বড়সড় সুখবর আসতে চলেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন