Top News

নতুন সরকারের জন্য কত টাকার ঋণ ও কী কী চ্যালেঞ্জ রেখে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?


কলকাতা: দীর্ঘদিনের শাসনের পর বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— নতুন সরকারের হাতে ঠিক কেমন আর্থিক পরিস্থিতি তুলে দিয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার? রাজ্যের বাজেট নথি ও অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বলছে, বিপুল ঋণের বোঝার পাশাপাশি একাধিক প্রশাসনিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে আগামী সরকার।

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মোট সঞ্চিত ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭.৭২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। বাজেট নথিতে জানানো হয়েছে, শুধু ঋণ শোধের জন্যই ৮০ হাজার কোটির বেশি বরাদ্দ রাখতে হয়েছে রাজ্যকে।

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—

  • বিপুল ঋণের সুদ ও কিস্তি শোধ
  • সরকারি কর্মচারীদের DA ও বকেয়া সংক্রান্ত চাপ
  • কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
  • পরিকাঠামো উন্নয়ন বজায় রাখা
  • কেন্দ্র-রাজ্য আর্থিক সম্পর্কের টানাপোড়েন সামলানো

বিশেষ করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে থাকা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য-রাজনীতিতে বিতর্ক চলছে। শিক্ষা, আবাসন ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ না পাওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারের অভিযোগ ছিল। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি ছিল, আর্থিক অনিয়মের কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এছাড়াও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, ছাত্রঋণ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ রাজস্ব প্রয়োজন হবে। ফলে নতুন সরকারকে একদিকে যেমন জনমুখী প্রকল্প চালাতে হবে, অন্যদিকে আর্থিক শৃঙ্খলাও বজায় রাখতে হবে।

রাজ্যের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, রাজস্ব ঘাটতি এবং আর্থিক ঘাটতি— দুটোই এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে রাজ্যের Fiscal Deficit GSDP-এর ৩.৬ শতাংশ ধরা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে প্রথম কয়েক মাসেই বোঝা যাবে তারা কীভাবে এই বিশাল ঋণের বোঝা ও প্রশাসনিক চাপ সামাল দেয়। কারণ বাংলার অর্থনীতি এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে, যেখানে উন্নয়ন ও আর্থিক ভারসাম্য— দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন