কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেই রাজনৈতিক সৌজন্য ও ঐক্যের বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সরকার গঠনের পর প্রথম বড় বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “বাংলার উন্নয়ন কোনও একক দলের পক্ষে সম্ভব নয়। সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।” নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা।
নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, রাজ্যের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিল্প ও আইনশৃঙ্খলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। বিরোধী দলগুলির মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সর্বদল বৈঠক ডাকতে পারেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি, শিল্প বিনিয়োগ, কৃষি এবং কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে সংঘাতের জন্য নয়, উন্নয়নের জন্য। তাই প্রতিটি রাজনৈতিক দল, সমাজের সব অংশ এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে আমরা নতুন বাংলা গড়তে চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দুর এই ‘সমঝোতার বার্তা’ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের রাজনীতিতে সংঘাত ও উত্তেজনার অভিযোগ ছিল। সেই পরিস্থিতিতে ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছেন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
যদিও বিরোধী শিবিরের একাংশ এই মন্তব্যকে “রাজনৈতিক কৌশল” বলে ব্যাখ্যা করেছে। তবে অনেকের মতে, নতুন সরকারের শুরুতেই এই ধরনের বার্তা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ কিছুটা বদলাতে পারে।
এদিকে, শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— সত্যিই কি বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে? এখন সেই দিকেই নজর সকলের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন