কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) ইস্যুতে ফের তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যেই বকেয়া DA মিটিয়ে দেওয়ার দাবি সামনে এসেছে। সেই সঙ্গে এবার বিশেষ দাবি তুলেছেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের একাংশও।
রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে কারণ নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে এবং DA-র বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতির পর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়েছে।
অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতর DA বকেয়া মেটানোর বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত DA বকেয়া একাধিক ধাপে মেটানো হবে। প্রথম পর্যায়ে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া দুই কিস্তিতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এবার নতুন করে সরব হয়েছেন শিক্ষক সংগঠনগুলি। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হলেও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা এখনও স্পষ্ট নির্দেশিকা পাননি। অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (APGTWA) ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের মনিটরিং কমিটির কাছে আবেদন জানিয়েছে বলে খবর।
শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, সরকারি কর্মীদের মতোই অনুদানপ্রাপ্ত স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের DA বকেয়াও দ্রুত মেটাতে হবে। একই সঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধাও তাঁদের জন্য কার্যকর করার দাবি উঠেছে।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টও DA-কে সরকারি কর্মীদের “আইনি অধিকার” হিসেবে উল্লেখ করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বকেয়া পরিশোধে একটি বিশেষ মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ফলে এখন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী, শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের নজর নতুন সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। সত্যিই কি ৪৫ দিনের মধ্যে মিলবে বকেয়া DA? সেই উত্তর জানতেই অপেক্ষায় সবাই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন