কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা করায় রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ রাজ্যে কার্যকর করা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে দাবি, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও বিস্তৃত করতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরকে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও খবর।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় সাধারণত দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হয়। দেশের একাধিক রাজ্যে এই প্রকল্প চালু থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে এতদিন তা কার্যকর হয়নি। ফলে নতুন সরকারের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, আয়ুষ্মান ভারত চালু হলে রাজ্যের বহু মানুষ বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসার সুবিধা পেতে পারেন। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থতা ও বড় অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমতে পারে।
তবে এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, রাজ্যের নিজস্ব স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে আরও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়াই মূল লক্ষ্য।
সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত নীতি ও গাইডলাইন প্রকাশ করা হতে পারে। স্বাস্থ্য দফতর, অর্থ দফতর এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বৈঠক হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
এখন রাজ্যের সাধারণ মানুষের নজর একটাই প্রশ্নে— সত্যিই কি পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প? আর যদি চালু হয়, তাহলে কীভাবে মিলবে সেই সুবিধা?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন