Top News

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর মতো সামাজিক প্রকল্প কি বন্ধ হয়ে যাবে? সরকার বদলের পর বাংলায় জোর জল্পনা

 


কলকাতা: বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— পূর্বতন সরকারের চালু করা সামাজিক প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ কী? বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী, ছাত্রঋণ কিংবা বিভিন্ন ভাতা প্রকল্প চালু থাকবে কি না, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।

রাজ্যের বহু পরিবার বর্তমানে এই প্রকল্পগুলির উপর নির্ভরশীল। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাসিক আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসাথীর চিকিৎসা পরিষেবা— লক্ষ লক্ষ মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। ফলে সরকার বদলের পর এই প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নতুন সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রকল্প বন্ধ করার ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রে খবর, একাধিক প্রকল্পের আর্থিক কাঠামো, উপভোক্তার তালিকা এবং খরচের হিসাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোন প্রকল্প কীভাবে চালানো হবে, কোথায় পরিবর্তন আনা হবে— তা নিয়েই পর্যালোচনা চলছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জনমুখী প্রকল্পগুলি পুরোপুরি বন্ধ করা সহজ হবে না। কারণ এই প্রকল্পগুলির সঙ্গে বিপুল সংখ্যক ভোটার ও পরিবারের স্বার্থ জড়িত। অন্যদিকে নতুন সরকার আর্থিক চাপ কমাতে কিছু প্রকল্পে নিয়ম পরিবর্তন বা নতুন শর্ত আনতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের উপর বিপুল ঋণের চাপ থাকায় আগামী দিনে সামাজিক প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশেষ করে মাসিক ভাতা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো প্রকল্পগুলিতে বিপুল ব্যয় হয়। ফলে আর্থিক ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে এই প্রকল্পগুলি চালানো হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

এদিকে বিরোধীদের দাবি, সামাজিক প্রকল্পে কোনও কাটছাঁট করা হলে সাধারণ মানুষের উপর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে নতুন সরকারের সমর্থকদের বক্তব্য, প্রকল্প বন্ধ নয়— বরং আরও স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতার সঙ্গে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার দিকেই জোর দেওয়া হবে।

যদিও এখনও সরকারিভাবে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়নি, তবুও বাংলার লাখ লাখ মানুষের নজর এখন একটাই প্রশ্নে— লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ ঠিক কী হতে চলেছে?

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন