রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনার অবসান। ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম— দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়ার পর অবশেষে কোন আসন রাখবেন তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভেন্দু ভবানীপুর কেন্দ্রই নিজের কাছে রাখছেন এবং নন্দীগ্রাম আসন থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন। ফলে খুব শীঘ্রই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন।
ভবানীপুরে জয়ের পর থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছিলেন, কলকাতার এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছাড়বেন না শুভেন্দু। কারণ দীর্ঘদিন তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ভবানীপুরে জয় বিজেপির কাছে বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। অন্যদিকে নন্দীগ্রামকে শুভেন্দু নিজের রাজনৈতিক ‘ভদ্রাসন’ বললেও শেষ পর্যন্ত দলীয় কৌশলকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এখন বড় প্রশ্ন, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী কে হবেন? ইতিমধ্যেই কয়েকটি নাম ঘুরতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। জেলা নেতৃত্বের একাংশ চাইছেন, আন্দোলনের মুখ এবং সংগঠনের পুরনো নেতাদের মধ্যে থেকেই কাউকে প্রার্থী করা হোক। আবার আরেক অংশের মতে, শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ কোনও নেতাকেই প্রার্থী করতে পারে বিজেপি, যাতে নন্দীগ্রামে দলের শক্ত ঘাঁটি অক্ষুণ্ণ থাকে।
সূত্রের খবর, প্রাক্তন সংগঠক নেতা, স্থানীয় জেলা নেতৃত্ব এবং আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পরিচিত মুখকে নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণা করা হয়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন শুধু একটি আসনের লড়াই হবে না, বরং ২০২৬ পরবর্তী বাংলার রাজনীতিতে শক্তির নতুন সমীকরণও নির্ধারণ করতে পারে। কারণ একুশের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের পরও নন্দীগ্রাম এখনও বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম প্রতীকী কেন্দ্র হিসেবেই বিবেচিত হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন