আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্যের বাজেট অধিবেশন (West Bengal Budget 2026)। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটাই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট, তাই স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল, সবার নজর এখন নবান্নের দিকে। সূত্রের খবর, এবার শুধু খরচের হিসেব নয়, রাজ্যের আর্থিক কাঠামো মজবুত করা, ঋণের বোঝা কমানো এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েই বাজেট তৈরি করতে চাইছে সরকার। পাশাপাশি নতুন কিছু প্রকল্প বা বড় ঘোষণা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে।
জুনে রাজ্য বাজেট অধিবেশন ২০২৬ (West Bengal Budget 2026)
আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্যের বাজেট অধিবেশন (West Bengal Budget 2026)। শুক্রবার বিশেষ অধিবেশনে এই কথা ঘোষণা করেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস। জানা গিয়েছে, ২২ জুন পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা হবে বিধানসভায়। বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর এটাই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশন হওয়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। এদিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, বিরোধিতা অবশ্যই হোক, তবে তা যেন গঠনমূলক হয়। রাজ্যের উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কাজে সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখার দিকেও তিনি গুরুত্ব দেন।
বিধানসভা ভোটের কারণে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সরকার ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করেছিল। সেই অন্তর্বর্তী বাজেটের মেয়াদ ছিল চার মাস। এবার পূর্ণাঙ্গ বাজেট তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই সব দপ্তরকে প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। সূত্রের খবর, নতুন সরকারের পরিকল্পনা এবং প্রকল্পের রূপরেখা মাথায় রেখেই বাজেট (West Bengal Budget 2026) তৈরি করা হচ্ছে। আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে আর্থিক পরিকল্পনা করার উপর জোর দিচ্ছে সরকার। একইসঙ্গে রাজ্যের ঋণের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, স্থায়ী সম্পদ তৈরির দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে সরকার।
এই বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই অর্থদপ্তরের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। সেখানে প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কারের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে খবর। নবান্ন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সরকারি খাতে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে প্রতিটি দপ্তরকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোট অন অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন খাতে যে বরাদ্দ করা হয়েছিল, তাও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পরিকাঠামো খাতে বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের অন্দরেই। প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকার বাজেটে মাত্র ৪১ হাজার কোটি টাকা পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন একাংশ আধিকারিক।
এবারের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে (West Bengal Budget 2026) সেই ঘাটতি মেটানোর দিকেই জোর দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো এবং সরকারি খরচে নিয়ন্ত্রণ আনার লক্ষ্যে প্রতিটি দপ্তরকে আলাদা করে পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন