মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করার পর সোমবার নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী । সেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ তার মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য হল, চাকরির পরীক্ষায় আবেদনের জন্য প্রার্থীদের বয়সের সীমাকে 5 বছর বৃদ্ধি করা । নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চাকরিহারা ও চাকরিপ্রার্থী শিক্ষকরা ।
এসএসসি এবং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ - দুটোর ক্ষেত্রেই সাধারণ পরীক্ষার্থীদের বয়সসীমা এতদিন ছিল 40 বছর । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নয়া ঘোষণার পর এবার সেটাই বেড়ে হল 45। একই ভাবে বয়সের সীমা বৃদ্ধি হবে সংখ্যালঘু জাতি ও উপজাতির ক্ষেত্রেও । নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু বলেন, "মাননীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহজি নির্বাচনী প্রচারে রায়দিঘি থেকে বলেছিলেন যে, 2015 সালের পরে পশ্চিমবঙ্গে কোনও রিক্রুটমেন্ট হয়নি । তাই প্রচুর শিক্ষিত যুবক-যুবতীর বয়স চলে গিয়েছে । তাই পাঁচ বছর এক্সটেনশন - মানে আবেদনের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা - ক্যাবিনেট মঞ্জুর করল । এটাও আজকে আমরা করলাম ।"
নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে খুশি চাকরিহারা ও চাকরিপ্রার্থীরা ৷ 2025 সালের এসএসসির নতুন চাকরিপ্রার্থী শিশির দাস বলেন, "আগের সরকার শুধুমাত্র ভাতা দিয়ে সবাইকে চুপ করিয়ে রেখেছিল । শেষ 15 বছর যে নৈরাজ্য চলেছে তার বলি হয়েছে আমরা । পুরনো সরকার চাইলে 9-10টা এসএসসি নিতে পারত । কিন্তু তারা সেটা করেনি । বরং রাজ্যের শিক্ষিত বেকার ছেলেমেয়েদের বলেছেন চপ-বিড়ি তৈরি করতে । নতুন সরকারকে বলব, রাজ্যের স্কুলগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ, সেইদিকে নজর দিতে । শুধু বয়সের পরিসীমা বৃদ্ধি করলেই হবে না । নিয়ম করে এসএসসি শুরু করতে হবে ।"
আরেক জন চাকরিপ্রার্থী সাফিউল হাসান বলেন, "এই সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি । তবে আমরা চাই 2016 সালে যে দুর্নীতি হয়েছে, তার যোগ্য বিচার । তার সঙ্গে 2025 সালে নতুন এসএসসির 10 নম্বর যে অতিরিক্ত দেওয়া হয়েছে, তা বাতিল করতে হবে ।"
2016 সালের এসএসসির চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক রাকেশ আলম বলেন, "এই ঘোষণা অত্যন্ত সময় উপযোগী । কারণ বিগত পনেরো বছরে এই রাজ্যে তেমন কোনও নিয়োগ হয়নি । যে নিয়োগ হয়েছে, সেটা অধিক প্রশ্ন এবং দুর্নীতির সঙ্গে হয়েছে । এর সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী আমরা । নতুন সরকারি এই সিদ্ধান্তকে আমরা আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, তবে পাশাপাশি আমরা নতুন সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি এসএসসি যেন প্রত্যেক বছর হয় । শুধু এসএসসি নয়, রাজ্যের প্রত্যেকটি সরকারি স্কুলের পরীক্ষা প্রতি বছর হওয়া দরকার । তার সঙ্গে দুর্নীতি নির্মূল করে নিয়োগের প্রয়োজন ।"
একই কথা শোনা গিয়েছে আরও এক চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক সুমন বিশ্বাসের মুখে । তিনি বলেন, "যে নৈরাজ্য চলছিল, সেখানে অনেক শিক্ষক বেকার রয়েছে । তাঁদের জন্য নতুন এই সরকার আশীর্বাদ হিসাবে কাজ করবে ।"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন