Top News

সুদ-সহ বেতন ফেরতের তোড়জোড়! অযোগ্য চাকরিহারাদের উড়ল ঘুম

এসএসসি নিয়োগ মামলার জেরে (SSC Scam) রাজ্যের বহু শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। চাকরি বাতিলের ধাক্কা সামলানোর আগেই এবার নতুন আতঙ্ক ঘিরে ধরেছে তাঁদের। এতদিনের প্রাপ্ত বেতন নাকি সুদ-সহ ফেরত নেওয়া হতে পারে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় বার্তা পাঠানো শুরু হয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই দুশ্চিন্তায় ভুগছেন বহু চাকরিহারা পরিবার।

এসএসসি দুর্নীতিতে (SSC Scam) বেতন ফেরত চাকরিহারাদের

দীর্ঘদিন ধরে চলা এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট একাধিক নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, যাঁরা বৈধ মেধাতালিকার বাইরে থেকে চাকরি পেয়েছেন, প্যানেলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর নিয়োগ পেয়েছেন অথবা ফাঁকা ওএমআর জমা দিয়েও চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের বেতন সুদ-সহ ফেরত দিতে হবে। পরে দেশের শীর্ষ আদালতও সেই নির্দেশ বহাল রাখে। যদিও এই রায়ের বিরুদ্ধে চাকরিহারাদের একাংশ এখনও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রশাসনিক স্তরে নির্দেশ কার্যকর করার তোড়জোড় শুরু হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

চাকরি হারানো শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অনেকের আশঙ্কা, সুদ-সহ হিসাব করলে ফেরতের অঙ্ক মাথাপিছু ৪৪ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, এত বড় অঙ্কের টাকা ফেরত দেওয়া অধিকাংশ মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে অসম্ভব।

সিউড়ির চাকরিহারা শিক্ষিকা শতাব্দী সরকারের কথায়, “টাকা ফেরতের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নোটিস হাতে পাইনি। তবে আদালতের রায়ে যাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, আমি সেই তালিকায় পড়ি না। আমি পরীক্ষা দিয়ে সম্পূর্ণ উত্তর লিখেছিলাম। তাই আমার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, সব চাকরিহারার কাছ থেকেই টাকা ফেরত চাওয়া হতে পারে। সেটাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।”

তাঁর কথায় স্পষ্ট ক্ষোভও ধরা পড়ে। ওই চাকরিহারা শিক্ষক বলেন, “আমাদের চাকরি যদি অবৈধ হয়েও থাকে, আমরা তো সাড়ে ছয় বছর ধরে নিয়মিত স্কুলে গিয়ে পড়িয়েছি। ছাত্রছাত্রীদের দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের সেই পরিশ্রমের কি কোনও মূল্য নেই? জেলের কয়েদিরাও শ্রমের বিনিময়ে পারিশ্রমিক পান। তাহলে আমাদের শ্রমকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হবে কেন?”

চাকরি হারানোর পর থেকেই বহু পরিবার আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কারও সংসার চলছে সঞ্চয়ের টাকায়, কেউ আবার ধার করে দৈনন্দিন খরচ সামলাচ্ছেন। অনেকের সন্তান উচ্চশিক্ষায় পড়ছে, কারও পরিবারের চিকিৎসার ব্যয় রয়েছে। তার মধ্যে আবার কয়েক বছরের বেতন ফেরতের সম্ভাবনা তাঁদের আরও বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের একটাই প্রশ্ন—বছরের পর বছর স্কুলে গিয়ে যে দায়িত্ব পালন করেছেন, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গড়তে যে শ্রম দিয়েছেন, তার কি আদৌ কোনও স্বীকৃতি নেই? অনেকে যৌথভাবে আইনি পথে লড়াই চালানোর কথা ভাবছেন। তাঁদের আশা, আদালত প্রকৃত মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের সঙ্গে দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের আলাদা করে দেখবে এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। 

 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন