মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েই নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিল বিজেপি। প্রচারের মঞ্চ থেকে নারী কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়েছিল গেরুয়া শিবির। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর বিকল্প হিসেবে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার'(Annapurna Bhandar) প্রকল্প ঘোষণা করে মহিলাদের মাসিক ভাতা দ্বিগুণ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এবার ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের অসংখ্য মহিলার মনে প্রশ্ন তৈরি হয় কবে শুরু হবে এই প্রকল্প? কীভাবে নাম নথিভুক্ত করতে হবে? কারাই বা এই সুবিধা পাবেন? অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আনলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
কারা পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar)
আগামী ১ জুন থেকেই ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’-এর টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে। আগের প্রকল্পের মতো শিবির করে আবেদন নয়, পুরো প্রক্রিয়াটিই এবার ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। অর্থাৎ আবেদন করতে হবে অনলাইনে।
এই প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা বলেন, “আমি শুনছিলাম এত দিন লক্ষ্মীর ভান্ডার দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে হয়েছে। তবে অন্নপূর্ণা ভান্ডার পুরোটাই অনলাইনে করতে হবে। সমস্ত মানুষ যাতে অনলাইনেই আবেদন করতে পারেন সেটা দেখা হবে। যিনি ক্লাস ওয়ান পাস কিংবা ক্লাস পাস করেছেন বা হয়ত শিক্ষার আলোই দেখেননি তাঁদেরও কোনও অসুবিধা হবে না। এতটাই সহজ ভাবে অনলাইনে আবেদনের পদ্ধতি করা হবে।”
কারা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন, তা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে সরকার। জানানো হয়েছে, বর্তমানে যাঁরা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর সুবিধাভোগী, তাঁদের প্রত্যেককেই নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের নথি পুনরায় যাচাই করা হবে। একইসঙ্গে মৃত ব্যক্তিদের নাম স্বাভাবিকভাবেই নতুন তালিকায় রাখা হবে না।
নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। প্রশাসনের দাবি, অবৈধভাবে দেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি নাগরিকদের এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না। যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে গিয়েছে, তাঁরা প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় নাগরিক কি না, তা যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদিও ট্রাইবুন্যালে আবেদনকারী কিংবা সিএএ-র জন্য আবেদন করেছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আপাতত সুবিধা বন্ধ করা হচ্ছে না বলেই জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মহিলাদের আর্থিক নিরাপত্তাকে সামনে রেখে বিজেপির এই প্রকল্প আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। এখন নজর থাকবে, অনলাইন নির্ভর এই নতুন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন কত দ্রুত এবং কতটা নির্বিঘ্নভাবে করা যায় তার উপর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন